ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন। সংগঠন 'হামাস' একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে ফিলিস্তিন মনে করে ইসরায়েল পৃথিবীর বৃহত্তম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী। আতঙ্কিত।
দুটি বৃহৎ রাষ্ট্র অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণেই বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছিল। আমার মতে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
ষোড়শ শতাব্দীতে ভৌগোলিক আবিষ্কার এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে শিল্প বিপ্লবের ফলে বিশ্বে ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশ ঘটতে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিংশ শতকের প্রথম দশকে লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় মার্কসবাদীয় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এসময় রাশিয়া অন্যতম পরাশক্তি হওয়ায় তার প্রভাবে অন্যান্য দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়। ফলে ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সাথে রাশিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকে। কিন্তু ইতিমধ্যে জার্মানিতে নাৎসিবাদ, ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্র পার্থক্য ভুলে গিয়ে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাৎসিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্র দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিকাশে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র শাঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে একে অপরের বিরুদ্ধে অবরোধ চালু করে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৫৬ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট, ১৯৭৯ সালে আফগান সংকট স্নায়ুযুদ্ধের ছায়ারূপ। অবশেষে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যে দিয়ে সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজতন্ত্র ও ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্যই স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ I
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?